A constuction worker copes with the heat.

সামাজিক নিরাপত্তা

সামাজিক নিরাপত্তায় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মাইলফলক অর্জন, তবে জলবায়ু পরিবর্তনসহ নতুন অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি

আইএলও’র নতুন এক প্রতিবেদনে আঞ্চলিক সামাজিক নিরাপত্তার আওতার একটি ইতিবাচক প্রবণতা উঠে এসেছে। তবে অসম অগ্রগতি ও আর্থিক স্থায়িত্বের মতো সমস্যাগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার পাশাপাশি সমন্বিত ব্যবস্থার উন্নতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪

A constuction worker copes with the heat. © Shutterstock

ব্যাংকক (আইএলও নিউজ)– আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) নতুন এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ২০২৩ সালে একটি মাইলফলক অতিক্রম করেছে। এই সময়ে প্রথমবারের মতো এই অঞ্চলের অর্ধেকের বেশি জনগোষ্ঠী (৫৩.৬ শতাংশ) অন্তত একটি সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার আওতায় এসেছে।

তবে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বারবার একই এবং নতুন ও পরিবর্তনমূলক– উভয় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়। এই অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা কাজে লাগানোর জন্য দেশগুলো উল্লেখযোগ্য মাত্রায় শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

‘বিশ্ব সামাজিক নিরাপত্তা প্রতিবেদন ২০২৪-২৬ এর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক সহায়ক প্রতিবেদন: জলবায়ু পদক্ষেপ ও জাস্ট ট্রানজিশনের জন্য সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এই অঞ্চলে সামাজিক নিরাপত্তা সেবার কার্যকর আওতা বৈশ্বিক গড়কে (৫২.৪ শতাংশ) ছাড়িয়ে গেছে। তা সত্ত্বেও প্রায় ২১০ কোটি মানুষ তাদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায় এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক বিভিন্ন ঝুঁকির ক্ষেত্রে এখনও অরক্ষিত। সামাজিক সুরক্ষা প্রসারে অগ্রগতিও অসম।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে পূর্ব এশিয়ায় সামাজিক নিরাপত্তার কার্যকর আওতার হার ১৫.২ শতাংশ পয়েন্ট (৬৩.৩ থেকে বেড়ে ৭৮.৫ শতাংশ), দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ১৩.৪ শতাংশ পয়েন্ট (৩২.৫ থেকে বেড়ে ৪৫.৯ শতাংশ), দক্ষিণ এশিয়ায় ১৬.৭ শতাংশ পয়েন্ট (১৮.৭ থেকে বেড়ে ৩৫.৪ শতাংশ) এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপগুলোতে ৬.৮ শতাংশ পয়েন্ট (৬৫.৭ থেকে বেড়ে ৭২.৫ শতাংশ) বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৈষম্য বিদ্যমান।

অঞ্চলটি সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুবিধার পর্যাপ্ততা ও আর্থিক স্থায়িত্বের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। ২০২৩ সালে অঞ্চলটি সামাজিক সুরক্ষার পেছনে জিডিপির ১১.৮ শতাংশ ব্যয় করেছে, যা বৈশ্বিক গড়ের (১৯.৩ শতাংশ) চেয়ে অনেক কম।

এরই সাথে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, অন্তত একটি সুবিধা দিয়ে কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনা পুরুষের তুলনায় নারীরা ৬.৮ শতাংশ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে। এই ব্যবধান বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় আরও বেশি। দক্ষিণ এশিয়ায় এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যবধানের হার ১১.১ শতাংশ পয়েন্ট।

“যদিও ২০১৫ সাল থেকে অঞ্চলটিতে অর্জিত অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক, তবে সর্বজনীন আওতা অর্জন এবং পর্যাপ্ত ও বিস্তৃত সুরক্ষার জন্য অঞ্চলটিকে এখনও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে। বিস্তৃত ও সহনশীল সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিনিয়োগ আজ যতটা জরুরি ততটা আগে কখনোই ছিল না”- বলেন আইএলও’র সহকারী মহাপরিচালক এবং এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক চিহোকো আসাদা-মিয়াকাওয়া।

আইএলও’র পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য আইএলও’র ডিসেন্ট ওয়ার্ক টেকনিক্যাল সাপোর্ট টিমের সিনিয়র সামাজিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কেনিচি হিরোসে বলেন, “এটি বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় যে, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অনেক দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের উচ্চ ঝুঁকির সম্মুখীন। তবে এসব দেশে সামাজিক নিরাপত্তার কার্যকর আওতা এখনো কম। জলবায়ু অভিযোজন ও প্রশমন প্রচেষ্টায় সহায়তার ক্ষেত্রে এবং সবার জন্য, বিশেষ করে অরক্ষিত সম্প্রদায়গুলোর সহনশীলতা বাড়ানোর মাধ্যমে একটি জাস্ট ট্রানজিশন বা ন্যায়সঙ্গত পরিবর্তনে সহায়তা প্রদানে সামাজিক নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”

বাংলাদেশ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পঞ্চম জনবহুল দেশ। বিশ্বব্যাপী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, বন্যা, উপকূলীয় এলাকা ও নদীর তীরে ভাঙন, খরা ও ভূমিধসের মতো জলবায়ু-জনিত দুর্যোগের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নবম।

অনুমান করা হয় যে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ১৭ শতাংশ ভূমি পানিতে তলিয়ে যাবে, যার ফলে দেশটি তার ৩০ শতাংশ কৃষিজমি হারাবে। এটি উপকূলীয় এলাকার জনগোষ্ঠীকে শহরে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য করবে, যেখানে তারা দারিদ্র্য ও বেকারত্বের শিকার হতে পারে।

“বাংলাদেশে যেহেতু ক্রমবর্ধমানভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অনুভূত হচ্ছে, তাই বন্যা, তাপপ্রবাহ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সহনশীলতা গড়ে তুলতে সামাজিক নিরাপত্তার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। সঠিকভাবে পরিকল্পিত ও অর্থায়নকৃত কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাব অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে, জাস্ট ট্রানজিশন বা ন্যায়সঙ্গত পরিবর্তন সহজতর করতে পারে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের আয়ের সুরক্ষা প্রদান করতে পারে”- বলেন বাংলাদেশে আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর টুওমো পোটিআইনেন।

যদিও ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশের একটি বিস্তৃত জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা কৌশল (এনএসএসএস) রয়েছে, তবে এটি এখনও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এমন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারেনি, যা আকস্মিক জলবায়ু-জনিত অভিঘাত এবং একটি বিস্তৃত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সুবিধাগুলো চিহ্নিত করতে পারে।

English